রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- রুহুল আমিন প্রদান নিজেকে পরিচয় দেন শ্রমিক নেতা। প্রভাব খাটিয়ে চলেন এলাকায়। এখন তিনি ধর্ষণের মতো ঘটনার বিচার সালিশ করেন। ধর্ষণের মত ঘটনা বিচার সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার বিষয়টি জানতে চাইলে রুহুল আমিন প্রদান বলেন, ‘সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে। আমাদের এলাকার বিষয় আমরা মীমাংসা করেছি। এটা নিয়ে আপনাদের মাথা ঘামাতে হবে না। আমরা তো আইন জানি।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পাগলা শাহী মহল্লায় এক চতুর্থ শ্রেণ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সালিশে ৫ হাজার টাকায় সেই অভিযোগ মীমাংসা করেন রুহুল আমিন প্রদান ও কিশোর গ্যাং লিডার নাঈম।
বিষয়টি ফতুল্লা মডেল থানার ওসি নূরে আজমকে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
ওসি নুরে আজম সংবাদ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। সালিশে ধর্ষণের অভিযোগ মীমাংসার সুযোগ নেই। পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ওই শিশুর মা বলেন, গত (২০ জুন) মঙ্গলবার প্রতিদিনের মতো আমি ও আমার স্বামী কাজে চলে যাই, সেদিন দুপুরে বৃষ্টির সময় আমার মেয়ে বাথরুমে গোসল করতে ছিল। এ সময় পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া বিপ্লব জোর করে বাথরুমে ঢুকে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে দেয়। আমার মেয়ের মুখ চেপে ও থাপ্পড় দিয়ে ধর্ষণ করে। আমার মেয়েটা চিৎকার চেঁচামেচি করলেও বৃষ্টির মধ্যে কেউ শুনতে পারেনি। আমার ছেলে বাসায় ফিরে ছদ্মনাম ঝুমাকে ডাকাডাকি করলে কিছুক্ষণ পর বাথরুম থেকে বিপ্লব বেরিয়ে আসলে দেখে তার বোন ভিতরে। বিষয়টি আমাদেরকে জানালে আমরা আইনের আশ্রয় নিতে গেলে এলাকার রুহুল আমিন প্রদান ও কিশোরগঞ্জ লিডার নাঈম এখানে বিচার করবে বলে জানায়। এমনকি তারা আমাদেরকে প্রদান করে।
মেয়ের বাবা আনসার আলী জানান, এলাকার রুহুল আমিন প্রদান ও বৈরাগী বাড়ি এলাকার নাঈমসহ কয়েকজন মিলে এমন একটি জঘন্যতম ঘটনা সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার করেছে। আমি আইনের আশ্রয় নিতে গেলে রুহুল আমিন প্রদান ও নাঈম আমাকে বাধা দেয়।
আমি সামান্য একজন সেলুন ব্যবসায়ী এখানে থেকে জীবিকা নির্বাহ করি। তাদের কথা না শুনলে আমাকে এখানে ব্যবসা করতে দিবে না। এমনকি এলাকা থেকে বের করে দিবে। নিরুপায় হয়েই তাদের কথা শুনতে হয়েছে। আমার মেয়ের সাথে খারাপ কাজ করার জন্য বিপ্লবকে মারধর ও ৫০০০ টাকা জরিমানা করেছে তারা। এ বিষয়ে যদি আমি সাংবাদিকদেরকে ও আইনের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করি তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে জানান।
বিষয়টি রুহুল আমিন প্রদানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টার মীমাংসা করা হয়েছে। আমাদের এলাকার বিষয় আমরা মীমাংসা করেছি। দর্শনের ঘটনা মীমাংসা করা যায় কিনা জানতে চাইলে বলেন, সেটা আমি বুঝব পুলিশ প্রশাসন আমি দেখব। এটা নিয়ে আপনাদের মাথা ঘামাতে হবে না। আমরা তো আইন জানি।’
এ বিষয়ে কিশোর জ্ঞান লিডার নাইম এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি প্রথমত বিষয়টি অস্বীকার করেন পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন আমরা ছেলেটিকে মারধর করে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা বলে বিচার সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করে দিয়েছি।